কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষায় ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের প্রদর্শনী- VIVA

679

শহর কলকাতা। কালচারাল ক্যাপিটাল অফ ইন্ডিয়া, সিটি অফ জয় অথবা সিটি অফ প্যালেসেস নামে পরিচিত আমাদের ভালোবাসার শহর কলকাতা আজকে একাধিক কারণের জন্য আসন্ন বিপদমুখী। শতাধিক বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে ওঠা এই শহরকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে একবিংশ শতাব্দির উদ্ভাবনা- উন্নয়ন। থুড়ি, আধুনিকীকরণ। এই আধুনিকীকরণের জোয়ারে যেমন একদিকে আমাদের জীবনধারার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, অপরদিকে এই শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের হয়েছে ক্ষতি। ঐতিহ্যবাহী এই শহর আজকে করপোরেট দুনিয়ার লোভের শিকার। কিভাবে আশা করি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত্যে পুরনো বাড়ি ভেঙ্গে ঝাঁ চকচকে বহুতল ও অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে উঠতে দেখা যায়। একে একে ভেঙ্গে যায় কলকাতার বহু পুরনো এক একটি বুনিয়াদী স্থাপত্যশৈলী। ঐতিহ্যবাহী অট্টালিকা থেকে জমিদারি দালানবাড়ি- আধুনিক নির্মাণ শিল্পের প্রখর বিস্তারের গ্রাস থেকে মুক্তি পায় না কিছুই। স্পন্সর হল গিয়ে করপোরেট দুনিয়া। কিভাবে সে বলব অন্য কোনদিন। আজ আসি অন্য এক গল্পে। আজ আনন্দের দিন।

শতাধিক বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে ওঠা এই শহরকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে একবিংশ শতাব্দির উদ্ভাবনা- উন্নয়ন। থুড়ি, আধুনিকীকরণ।

বাঙালি প্রতিবাদী জাতি। দুরভাগ্যবশত, সাধারণ মানুষের ঐতিহ্যের গুরুত্য ও অনন্য এক পরিচিতি তৈরি করায় ঐতিহ্যের অবদানের সম্পর্কে বিশেষ সচেতনতা  না থাকায়, তারা কোনদিনো উন্নয়নের  স্বার্থে এই বর্বর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে সক্ষম হয়নি। এবং জনসাধারণ কে দোষী সাব্যাস্ত করা এক্ষেত্রে খুবী কাঁচা কাজ হবে- ইংরাজিতে যাকে বলে ব্লেমগেম। প্রতিবাদের সুর না ওঠার কারণ? সচেতনতার অবাভ। মানুষের সচেতন না হওার পিছনে মানুষের হাত খুবী কম। আজগুবি লাগে শুনতে, কিন্তু এই ব্যাস্ত সমস্ত জীবন পালায় কোন ব্যাক্তিই বা পারে সময় বের করে ভাবতে পাশের পাড়ার মল্লিকদের জমিদারবাড়ি হঠাৎ ভাঙা কেন হচ্ছে। শরিকি ঝামেলা,  অসচেতনতার ফলে পৈত্রিক বাড়ির রক্ষনাবেক্ষনের দায়ভারের প্রতি অনীহা, আর্থিক ও মানুষিক সম্পৃক্ততা- মোটা টাকার অঙ্ক ও আভিজাত থ্রি বেড্রুমের বিনিময়ে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের হাতে তুলে দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। বলা বাহুল্য তাই হয়ে আসছে। আর এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছে সেই পুরনো দিনের ঠাকুরদালানের চুন খসা দেওয়ালের স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ, ঢাকের বাদ্যি বা ধুনুচি নাচ তো কবেই অস্ত গেছে ব্যাস্ততার দিগন্তে।

কিন্তু এই ঐতিঝ্যই তো আমাদের পরিচয়। আমাদের এই ইতিহাস যদি ধুয়ে যায়, তাহলে তো মশাই সাউথ ও নর্থ কলকাতা এক ঘাটে জল খাবে। অষ্টমীতে মানিকতলার হাজরা বারিতে ভোগ খেতে গিয়ে দেখলেন সেখানে পাঁচতলা ফ্ল্যাটবাড়ি উঠেছে। দুম করে যাবে মাথাটা গরম হয়ে। অথবা রাইটার্স বিল্ডিং ভেঙে সেখানে যদি কেউ নবান্ন বানাবার উদ্যোগ ন্যায়, বাঙ্গালী রেগে আগুন হবে না? বলা বাহুল্য, পারবে না।

কিন্তু এই ঐতিঝ্যই তো আমাদের পরিচয়।

You will also love:
1 of 4

আপনি হয়ত ভাবছেন আমি আনন্দের কথা বলব বলে তখন থেকে দুঃখবিলাশ কেন করে যাচ্ছি। আরে দাদা, কলকাতার লোডশেডিঙে এক ঘণ্টা ঘামলে তবে না হঠাং করে চলে ওঠা টেবিল ফ্যানের হাওয়ায় গা ঠাণ্ডা করে আরাম! জনসাধারণকে দোষারোপ কোনদিন করিনি, করব না। ভুল তাদের যারা এই ঐতিহ্যের মান ও মর্ম বুঝেও নিরব থেকেছে, স্কুলের বন্ধুর নিজের বাগান বাড়ি কনট্র্যাকটরকে বেচে দেওয়ার খবর শুনেও তাকে বুঝিয়ে বলেনি। ভুল আমাদের, সমগ্র আর্কিটেকচার ভ্রাত্রিতের, আমরা দরকার বোধ করিনি আমাদের কাজের ব্যাপারে আর পাঁচটা মানুষ কে জানাতে। অথবা নিজেদের ঐতিহ্যের সঠিক প্রচার করে জনগন কে গৌরবান্নিত করে তুলতে। জন-সচেতনতা কেন প্রয়োজন, তা যতদিনে বুঝে উঠেছে স্থপতিরা, ততদিনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। কর্পোরেট অধিগ্রহণ ও তার সাথে যুক্ত আর্থিক সুবিধার লালসা বড্ড ভয়ংকর, টাকার স্বাদ কি সহজে ফিরয়ে দেওয়া যায়?

যাকগে, আনন্দের কথায় আসি। বছর দেড়েক আগে আমরা যখন স্থাপত্য তৈরি করি, তখন থেকে এখনো পর্যন্ত আমরা আমাদের পাঠকগণকে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের ব্যাপারে সচেতন করে তোলার প্রচেষ্টায় রত। আজকে আপনাদের জানাবো আর এক নতুন প্রচেষ্টার কথা, ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভ। সদ্য শুরু এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ কলকাতার সমগ্র নাগরিকবৃন্দের প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা এক অনন্য মাধ্যম যার প্রাথমিক উদেশ্য মানুষের মধ্যে ঐতিহ্য ও তার অপরিহার্যতা নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা।  শহর কলকাতার প্রতি নিবিড় ভালোবাসার দ্বারা একত্রীকৃত স্থপতি, শিল্পী, ইভেন্ট ম্যানেজার, ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ, ডেভেলপার, ফটোগ্রাফার এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা এই প্রচেষ্টার একটাই লক্ষ্য- শহুরে উন্নয়নের সঙ্গে ঐতিহ্যের টেঁকসই মিলবন্ধনের দ্বারা আমাদের অনন্য এবং অপরিবর্তনীয় উত্তরাধিকারী ইতিহাস কে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া ও জনসাধারনের মধ্যে এই নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা।

ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

সেই সুত্রেই ৪৮ মুক্তরাম বাবু স্ট্রীটের ইমামি ফাউন্ডেশনের একটি ঐতিহ্যময় ভবনে হয়ে গেল ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের প্রথম পাবলিক অউটরিচ প্রোগ্রাম, একটি হেরিটেজ ফটোগ্রাফি শো- VIVA। স্প্যানিশ ভাষায় VIVA মানে Alive। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট চিত্রকার কৌন্তেয়া সিনহার তোলা দেশী ও বিদেশী ছবির প্রদর্শন করা হয় এই প্রদর্শনীতে।

পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল, মাননীয় শ্রী কেশরীনাথ ত্রিপাঠী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আসেন। কৌন্তেয়া সিনহার তোলা একটি ছবি ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের পক্ষ্য থেকে ওনাকে উপহার দেওয়া হয়।
You will also love:
1 of 4

১৬ থেকে ১৮ তারিখ অব্দি তিনদিন ব্যাপি এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল, মাননীয় শ্রী কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট গীতিকার ঊশা ঊত্থুপ ও আন্যান্য বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

নিমন্ত্রিতের তালিকায় পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল, মাননীয় শ্রী কেশরীনাথ ত্রিপাঠী সহ বিখ্যাত গীতিকার ঊষা ঊত্থুপ ও বিশিষ্ট তবলা বাদক বিক্রম ঘোষ ছিলেন।

হেরিটেজ অ্যাক্টিভিস্ট ও ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের স্রস্টা অয়ন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি আমদের ভবিষ্যতের জন্য অতীতকে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। আমার জন্য, আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা হল আমাদের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত, নান্দনিক, অনুপ্রেরণীয় ও অর্থনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ- আক্ষরিক অর্থেই এইগুলি আমাদেরকে আমাদের অদ্বিতীয় পরিচয় দিয়ে থাকে।“

ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের উদ্ভাবক ও বিশিষ্ট সদস্য, স্থপতি মুকুল আগারওয়াল বলেন, “একজন স্থপতি হওয়ার খাতিরে আমরা এই হেরিটেজ প্রপার্টির মুল্য বুঝি। কিন্তু সাধারণ মানুষ বোঝে না। একটা কথা আছে না, দেওয়াল ও কথা বলে। এইখানে সত্যিই বলে।“ এখানে বলে রাখা ভালো যে প্রদর্শনীটি ইমামি ফাউন্ডেশনের যে ভবনে আয়োজিত হয়েছিল, সেটি একটি ঐতিহ্যবাহী অট্টালিকা। কৌন্তেয়া সিনহার কথায় কলকাতার বিখাত কিছু আর্ট গ্যালারির ভাবনা ছেড়ে সি.এইছ.সি এর কমিটি কলকাতার মার্বেল প্যালেসের সংলগ্ন এই ভবনে প্রদর্শনীটি আয়োজন করার ব্যাবস্থা করে। এই ব্যাপারে স্থপতি মুকুল আগারওয়াল আরো বলেন, “এই যায়গাটিতে এক অদ্ভুত ধরনের অনুভাবনা হয়, মনে হয় যেন বহুকাল আগে বসবাসকারী সেই মানুষগুলোর শক্তি এখনো এখানে রয়ে গেছে।“

ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের উদ্ভাবক ও বিশিষ্ট সদস্য, স্থপতি মুকুল আগারওয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য ও বর্তমান দুনিয়ায় তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গুরুত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে একবার গেলে এই অপূর্ব বাড়ির মায়া কাটিয়ে বেরিয়ে আসা শক্ত। বহুপ্রাচীন এই বাড়ি আজকে ভগ্ন দশাতেও অতি সুন্দর। চুন শুরকির আস্তরণ খসে পরা পুরনো দেওয়ালের দিকে তাকালে দেখা যায় শতাব্দিপ্রাচীন ঈটের সারি এখনো পরিপাটি করে ধরে আছে এই বৃহৎ ভবনকে। পুনঃপ্রতিষ্ঠানের জন্যে বেধে রাখা কিছু বাঁশের সারির ভিতর দিয়ে দেখা যায় বারিটির বৃহৎ আর্চ, বাংলায় বলে খিলান। আলো আধারির অদ্ভুত খেলায় যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই এবড়োখেবড়ো ঈট ও চুন সুরকি চোখে পড়ে। দালানের চারিপাশে অতি যত্নে সাজিয়ে রাখা কৌন্তেয়া সিনহার ছবি সমূহ তোলপার করে তোলে মন, দেশ বিদেশের অসামান্য কিছু ঐতিহ্যের নিদর্শন ভাবতে বাধ্য করে সাধারণ মানুষ কে, ‘সত্যিই কি আমাদের ইতিহাস জলাঞ্জলি দিয়ে উন্নয়নের দরকার আছে? উন্নয়ন তো ঐতিহ্যের সাথে সমান্তরাল ভাবেও এগোতে পারে।‘

ঐতিহ্যবাহী এই ইমারতে প্রদর্শনীটি করার ফলে আরও একটি লক্ষ্যপূরণ হল। জনসাধারণের প্রতি হেরিটেজ প্রপার্টির পুনঃব্যাবহারের বার্তা সক্রিয় ভাবে পৌঁছে গেল। কারিগরি ভাষায় আমরা যাকে বলি ‘আডাপটিভ রি-উঊজ’- পুরনো কোন বিল্ডিং কে পুনর্ব্যবহারে রাখা যাতে অবহেলা ও অনীহার জন্যে সেটির অবস্থার অবনতি না হয়।

অয়ন চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে কাজ করার সুত্রে কর্পোরেট হেরিটেজ রেস্পন্সিবিলিটি  নামক অনন্য এক ধারণার উদ্ভাবন করেছেন। উনি বলেন, “সি.এস.আর মূলত কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি যা এখন করপোরেট দুনিয়ায় খুবি সাধারণ একটি ব্যাপার। আমি আমাদের ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য কর্পোরেট হেরিটেজ রেস্পন্সিবিলিটি বা সি.এইছ.আর শুরু করার জন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনুরোধ করছি। আমাদের পূর্বপুরুষের তৈরি স্থাপত্যশৈলী কোনভাবেই পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব নয়। বড় বড় কোম্পানিগুলি যদি কোন এক ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্য নিতে পারে, তাহলে কলকাতা হয়ে উঠবে জীবন্ত এক যাদুঘর।“

অয়ন চট্টোপাধ্যায়

“আমি আমাদের ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য কর্পোরেট হেরিটেজ রেস্পন্সিবিলিটি বা সি.এইছ.আর শুরু করার জন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনুরোধ করছি।”

কৌন্তেয়া সিনহা, আপনাকে সেলাম। সেলাম এই অসাধারন প্রদর্শনীর ছবিসমূহ তোলার জন্যে। অয়ন চট্টোপাধ্যায় ও মুকুল আগারওয়াল কে স্থাপত্যের তরফ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন।

ক্যালকাটা হেরিটেজ কালেক্টিভের প্রথম প্রদর্শনীর সাফল্যে আমরা সবাই গর্বিত। আসা করবো ভবিষ্যতে এরকম আরও কিছু প্রদর্শনী, ও সচেতনতা বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখতে পাবো।

আমাদের পাঠকগণ খুব শিগগিরই এই প্রদর্শনীর সমস্ত ছবি আমাদের ওয়েবসাইটে দেখতে পাবেন। চোখ রাখুন আমাদের সোস্যাল মিডিয়া পেজগুলিতে।
Written by: Shubhayan Modak
Images by: Ayan Chattopadhyay

Shubhayan ModakShubhayan Modak is a graduate architect from Dept. of Architecture, Town & Regional Planning, Indian Institute of Engineering Science & Technology, Shibpur. He is the Co-founder and Editor-in-chief of Sthapatya that aims at raising architectural awareness amongst the common public by using local language and colloquial glyphs. He is passionate about visiting places and exploring the local rituals, cultures, traditions, and people. He has served as the Convenor & Editor-in-chief of Indian Arch ’16, the annual student’s journal of National Association of Students of Architecture, India.

Hits: 1295

Subscribe to our newsletter
Sign up here to get the latest news, updates and special offers delivered directly to your inbox.
You can unsubscribe at any time

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: যোগাযোগ করুন - info.sthapatya@gmail.com