বাংলার হারানো নৌকো ও রনতরী ( Boats in Terracotta Temples of Bengal )

154

This slideshow requires JavaScript.

আমি চোখ বুজলে দেখতে পাই । চোখের সামনে ছবির মত ভেসে ওঠে – অজয়ের নিম্ন অববাহিকার সেই গ্রামীণ সভ্যতা , যারা নদী পথ বেয়ে সভ্যতার আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিয়েছিল সমস্ত দক্ষিণ-গাঙ্গেয় অববাহিকায় । আমি চোখ বুজলে দেখতে পাই – তাম্রলিপ্তিকার অকুতোভয় নাবিকদলকে ; যারা ভাগ্যের খোঁজে পাড়ি জমিয়েছিল সমগ্র দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় । আমি চোখ বুজলে দেখতে পাই -নালন্দার এক বৌদ্ধ শ্রমণকে যিনি পিলসুজের ক্ষীণ আলোয় পাথরের বুকে এঁকে চলেছেন বাংলার ছেলে বিজয়সিংহের দিকবিজয়ী নৌবহর ও তার গৌরবগাথা । আমি দেখতে পাই – গঙ্গাঋদ্ধির সেই ক্লান্ত নাবিকদের – যারা দীর্ঘ সমুদ্রপথ পেরিয়ে উত্তমাশা অন্তরীপে নোঙর ফেলেছে ; গন্তব্য ক্রিট । আমি দেখতে পাই হাজার বছর আগের সেই পড়ন্ত বিকেলবেলা , যেদিন বাংলার এক রণতরী এসে ভিড়েছিল দক্ষিণ ভারতের মুজিরিস বন্দরে । চন্দ্রকেতুগড়ের সেই রনক্লান্ত বাঙালি যোদ্ধারা আবার বহুবছর বাদে পা ফেলেছিল স্বদেশের মাটিতে । যাদের গৌরব গাথা সুদূর মধ্যপ্রাচ্য পেরিয়ে জম্বুদ্বীপের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পরেছিল ।

দেখতে পাই মধ্যযুগের বাংলার এক নিঝুম দুপুর । যেদিন সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে প্রথম প্রবেশ করল পর্তুগীজ , মগ আর আরাকান জলদস্যুদের জাহাজ । রাতের অন্ধকারে বোম্বেটের দল নিরস্ত্র ও দুর্বলের উপর লুঠপাঠ আর অত্যাচার শুরু করল । দাউ দাউ করে জ্বললো গ্রামের পর গ্রাম , খড়ের চালা , তুলসী মঞ্চ … চিৎকার , কান্না , রক্ত … বাংলার দ্বিতীয় মাৎস্যন্যায় ।

দেখতে দেখতে দশক পেরিয়ে গেল , শতাব্দী পেরিয়ে গেল। বনিকের মানদণ্ড হাতে – ১৫৭১ এ পর্তুগীজ নাবিকরা নোঙর ফেললো ব্যান্ডেলে , ১৬৫৬ তে ডাচরা চুঁচুড়ায়, ১৬৭৩ এ ফ্রেঞ্চরা চন্দননগর আর ১৬৯০ তে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি কলকাতায় ।

অসংখ্য খাল-বিল-হাওড় -বাঁওর আর নদী-নালায় ভরা আমাদের এই বাংলা। শুধু ব্যবসা , যুদ্ধযাত্রা বা রাজনীতির পালাবদল নয়। একে আবর্ত করে গড়ে উঠেছে আমাদের জীবিকা , আমাদের খাদ্যাভ্যাস , আমাদের গান , আমাদের কালজয়ী সাহিত্য । তমলুক থেকে চট্টগ্রাম হয়ে হুগলীর আদিসপ্তগ্রাম ছুঁয়ে আজকের কলকাতা । কত অজস্র রণতরী , কত বানিজ্যপোত , কত বজরা , ডিঙি , সাম্পান , পানসি ঢেউয়ের তালে তালে বয়ে গেছে রাঢ় বাংলা থেকে বরেন্দ্রভূমে , পাড়ি জমিয়েছে সুদূর সমুদ্রে । মাঝির দরাজ গলায় ভাটিয়ালি গানের সুর ভেসে ভেসে গেছে ঘাট থেকে ঘাটে।

”…আমায় ডুবাইলি রে , আমায় ভাসাইলি রে , অকূল দরিয়ার বুঝি কূল নাই রে …”

দিনকয়েক আগে বাংলার টেরাকোটা নিয়ে কিছু রিসার্চ পেপার ঘাঁটছিলাম । পোড়া মাটির ভাস্কর্যে এই যে নৌকাবিহার বা বোম্বেটে নৌকার দৃশ্য থাকে সেই নিয়েই খোঁজাখুঁজি চলছিল । হঠৎ চোখে পড়ে গেল এই অমুল্য গবেষণালব্ধ সম্পদ ! আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম । আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে।

This slideshow requires JavaScript.

মূল গবেষণাটা আমার নয় । যারা মূল কাজটা করেছেন তাদের উল্লেখ নীচে করা হয়েছে । আমি শুধু সবটা একসাথে সাজিয়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম । ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

ছবি সূত্র – গুগল ইমেজেস

বিঃদ্র – কাঁকুড়গাছিতে এদেশের একমাত্র বোট মিউজিয়ামটা আছে । সময় পেলে ঘুরে আসবেন । Rangan Datta‘র ব্লগে পড়েছি হুগলীর শ্রীপুরে এখনও কাঠের নৌকা বানানো হয়ে থাকে । 

16797622_996855090414975_7805019445396855343_o

16707271_996857333748084_5370756116107764123_o

এছাড়াও ঘুরে আসুন নীচের লিঙ্ক গুলো থেকে

https://www.facebook.com/partha.sanyal.370/media_set?set=a.10154466207689423.716524422&type=3

http://bengalboat.blogspot.in/

Boat Museum, Ambedkar Bhawan, Kankurgachhi, Kolkata

Hits: 432

Subscribe to our newsletter
Sign up here to get the latest news, updates and special offers delivered directly to your inbox.
You can unsubscribe at any time

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: যোগাযোগ করুন - info.sthapatya@gmail.com