বাংলার গ্রামীন স্থাপত্য (Vernacular Architecture of Bengal)

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

তখন সবে আর্কিটেকচার পড়তে ঢুকেছি , ফার্স্ট ইয়ার । পুজোয় গ্রামের বাড়ি গেলে আত্মীয়স্বজন মজা করে বলতো – কি হে আর্কিটেক্ট , কতদূর শিখলে ? মাটির বাড়ি বানানো শেখায় তোমাদের কলেজের প্রোফেসররা ? আমি হাসিমুখে দুদিকে ঘাড় নেড়ে কেটে পরতাম।

তা গ্রাম বাংলার কুঁড়েঘরই বলুন কি খড়ের চারচালা- এ বানানো আর এমন কি ব্যাপার! এর মধ্যে কি স্থাপত্যের বিশেষ কিছু কারিকুরি আছে ?

আছে মশাই আছে ।

এই যে গ্রাম বাংলায় ধনুকের মত বাঁকানো খড়ের ছাদ বা চালা দেখা যায় – এ জিনিস কিন্তু বাংলার একান্তই নিজস্ব স্থাপত্যরীতি। চালার দুধারের বাঁকানো অংশগুলোকে বলে ছাঁচা । বর্ষাকালের বৃষ্টিপাতের কথা মাথায় রেখেই এরকম আকার দেওয়া হয়েছে।

Section of a rural hut bengal birbhum
Section of a Rural Mud Hut of India.

খেয়াল করবেন মাটি,বাঁশ,খড়,ধানের তুষ-ইত্যাদি দিয়ে বানানো দেওয়ালগুলো হয় অস্বাভাবিক রকম চওড়া। এর ফলে কি হয় শীতকালে একবার ঘর গরম করা হলে সেই উত্তাপ যেমন বহুক্ষণ ধরে জমে থাকে , ঠিক তেমনই গরম কালে প্রখর রোদের তাপ দেওয়াল ভেদ করে সহজে ঢুকতে পারেনা । গরমকালে মাটির মেঝেতে জল ঢেলে চাটাই পেতে শুয়ে থাকতে যে কি আরাম !

সাধারণত মাটির দেওয়াল তৈরি করার আগে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর বাঁশের খুঁটি পুঁতে খুব সাবধানে কঞ্চির বুনোন করে প্রাথমিক ফ্রেমটা বানিয়ে নেওয়া হয় । তারপর মাটির সাথে খড়,ধানের তুষ , চিটেগুড় ইত্যাদি মিশিয়ে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয় ফ্রেমের দুদিকে । এই পদ্ধতি অবশ্য আজকের নয় ! বহু হাজার বছর ধরেই মানুষ এই পদ্ধতিতে মাটির বাড়ি বানিয়ে আসছে । এই দেওয়াল যে শুধু সাশ্রয়ী বা বাড়ি ঠাণ্ডা রাখে তাই নয় এর আরেকটা অসাধারন গুন হল এর অগ্নি নিরোধক ক্ষমতা । ইদানিং বহু ভারনাকুলার আর্কিটেক্ট , আভ্যন্তরীণ দেওয়াল হিসেবে মাটির দেওয়ালের ব্যবহার করে থাকেন । আগ্রহীরা ‘Wattle & Daub Construction‘ লিখে গুগল সার্চ করে দেখতে পারেন ।

উপরের ছবিতে সেকশানগুলো লক্ষ্য করলে দেখবেন যে মাটির দেওয়ালের উপরিভাগে ও খড়ের চালার মাঝে ‘Bamboo Attic’ বলে একটা জায়গা নির্দেশ করা আছে । জায়গাটা সাধারণত বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এর আরেকটা কার্যকারিতা আছে । উপরের ফাঁকা জায়গাটা প্রখর গ্রীষ্মের সময় এয়ার ইনসুলেশানের কাজ করে , ফলে বাড়ির নীচের অংশটা ঠাণ্ডা থাকে ।

Wattle & Daub Construction in Bengal Architecture Vernacular Birbhum
Wattle & Daub Construction

এবার আসি জানলা গুলোর প্রসঙ্গে । রাস্তার দিকের জানলাগুলো হয় আকারে বেশ ছোট আর আনেক উঁচুতে । সাঁওতালদের মুখে শুনেছি জানলা উঁচুতে থাকলে – সাপ চট করে দেওয়াল বেয়ে যেমন ঘরে ঢুকতে পারেনা তেমনই রাস্তার মানুষ চট করে অন্তরমহলের খবর পায়না । এছাড়াও লক্ষ্য করবেন বাইরের উঁচু জানলা এমন ভাবেই বসানো থাকে যে সকাল ৯-১০টার পর সূর্যের তাপ বাড়লে , সেই উত্তপ্ত রোদ আর ঘরের ভেতর ঢুকতে পারেনা । কারন চালার বাঁকানো ছাঁচা আংশটা এমন ভাবেই বেরিয়ে থাকে যে বেলা বাড়লে জানলাটা ,ছাঁচার ছায়ার নীচে চলে আসে।

অন্তরমুখী বা দাওয়ার দিকের জানলাগুলো কিন্তু আকারে তুলনামূলক বড় হয় । মাটির বাড়ির এই দাওয়া বা বারান্দা অংশটা আদতে Transition Space কারন দাওয়াটা Private Space (শোবার ঘর) ও Public Space (উঠোন) এর মধ্যে যোগসূত্র রচনা করছে । এছাড়াও বাইরের পায়ে চলা মেঠো রাস্তার থেকে বাড়ির ভেতরের উঠোন সবসময় কিছুটা উঁচুতে থাকে ।  রাস্তা থেকে উঠোন হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে হয় ।

আবার খেয়াল করে দেখবেন একটা নির্দিষ্ট উঠোন বা আঙ্গিনাকে কেন্দ্র করে (ঘিরে) তিন চারটে বাড়ি বানানো হয়ে থাকে । এদের এক একটা মিনিয়েচার কমিউনিটি বলা যায় । স্থাপত্যের ভাষায় আমরা এগুলোকে বলে থাকি Cluster Around a Central Courtyard . ব্যাপারটা হল , গোটা গ্রামকে যদি আমরা একটা বিশাল সেট হিসেবে ধরি তবে এর ভেতরে আবার অসংখ্য সাবসেট থাকে । ধরা যাক পাড়া গুলো এক একটা সাবসেট । আবার এই পাড়াগুলোর মধ্যেও অসংখ্য ছোট ছোট কমিউনিটি বা গোষ্ঠী থাকে । সবথেকে ছোট সেটটা হল এক একটা বাড়ি বা Dwelling Unit. তারপর ক্রমে ক্রমে Small Cluster , পাড়া (Neighbourhood) , পল্লী (Hamlet) ইত্যাদি রয়েছে । আমরা অনেকসময় গ্রামগঞ্জ শব্দটা ব্যবহার করে থাকি । গঞ্জ শব্দটার আক্ষরিক অর্থ হল বাজার । সাধারণত সমৃদ্ধ গ্রাম যাতে বড়সড় হাটবাজার আছে তাদের গঞ্জ বলা হয়ে থাকে ।

Mud Mural Art of Birbhum Shantiniketan

কখনও সাঁওতাল গ্রামে গেলে খেয়াল করে দেখবেন মাটির বাড়ির গায়ে অনেক সময় লো রিলিফ মিউরাল বা দেওয়ালচিত্র আঁকা থাকে । শরৎ কালে আদিবাসীদের বাদনা পরব বা সোহরাইয়ের সময় বাড়ির মেয়েরা মাটিতে আল্পনা আঁকার সাথে সাথে অনেক সময় আঙুল দিয়ে বা বাঁশের ছোট কঞ্চি দিয়ে দেওয়ালে বিভিন্ন মিউরাল বানায়। বানানোর সময় – গোবর , চিটে গুড়, আলকাতরা, খড়িমাটি, বেলেমাটি, ধানেরশীষ, ভেষজরঙ -ইত্যাদির ব্যবহার করা হয় । এই দেওয়াল চিত্র যেমন একদিকে সৌন্দর্যসাধন করে , ঠিক তেমনই মাটির দেওয়ালকে রক্ষা করে বর্ষার সময় । অমসৃণ দেওয়ালে বর্ষার জলধারা বহু ধারায় বিভক্ত হয়ে সহজে মাটি ধুয়ে নিয়ে যেতে পারেনা ।

শান্তিনিকেতন বেড়াতে গেলে খোয়াই বা সোনাঝুড়ির আশেপাশের সাঁওতাল গ্রামগুলোতে এরকম অসংখ্য মাড মিউরাল (Mud Mural) চোখে পরে । তবে বিশ্বভারতীর শিল্পীদের কাছে ট্রেনিং নেবার ফলে এই সমস্ত গ্রামীণ শিল্পীদের কাজেও নাগরিক সভ্যতার ছাপ পড়েছে । খেয়াল করবেন , এই সব মিউরালগুলো প্রায় সবই চৌকো ফ্রেমে এঁকে তার মধ্যে করা হয়ে থাকে । অথচ সাঁওতাল পরগনার মূল মিউরয়ালগুলোর মধ্যে একটা ভীষণরকম আদিম ছোঁয়া থাকে যেটা দেখলেই আলাদা করে চেনা যায় !

Making of Mud Mural in Villages of Birbhum
Making of Mud Mural in Villages of Birbhum

আলোচনাটা শেষ করব বাড়ির ছাদের ব্যাপারে সামান্য কিছুটা আলোচনা করে । বাংলায় মূলত খড় ও  চৌকো মাটির টালি ব্যবহার করা হয়ে থাকে । বীরভূম , পুরুলিয়া পেরিয়ে পশ্চিমে গেলে আবার দেখবেন সেখানে একধরনের বৃত্তাকার মাটির টালির ব্যবহার হয়ে থাকে । স্থানভেদে এর বিভিন্ন নাম আছে , উড়িষ্যার দিকে সম্ভবত একে খাবরা বলে ।

এক্ষেত্রে আরেকটা বিষয়ের উল্লেখ করাও  বিশেষ প্রয়োজন , সেটা হল আজ থেকে শদেড়েক বছর আগের গ্রামবাংলার ছবি যদি দেখেন তবে সেখানের মাটির বাড়িগুলো ভালো করে লক্ষ্য করবেন । অথবা জয়রামবাটি , কামারপুকুরে আজও যে পুরনো মাটির বাড়িগুলো সংরক্ষণ করা আছে সেগুলোর কথাই ভাবুন । দেখবেন যে খড়ের চালাটা  বৃত্তাকারে ধনুকের মত বাঁক নিয়ে সামনের দিকে কতটা নেমে এসেছে ! এর সাথে আজকের মাটির বাড়ির সাথে তুলনা করলেই বুজতে পারবেন যে এখন আর ওরকম ভাবে খড়ের চালা তৈরি করা হয়না । কারণটা সম্ভবত দক্ষ শিল্পী বা কারিগরের অভাব ।

ইদানিং অবশ্য গ্রামেগঞ্জে এসবেস্টস ও সিমেন্ট শিটের ব্যবহারও বেড়েছে । তাছাড়া খড়ের চাল পরিবেশ বান্ধব এবং সাশ্রয়ী  হলেও , খড়ের চালের মূলত দুটো অসুবিধা । প্রথমত প্রতি বছর অন্তর অন্তর বর্ষার আগে বা পরে নতুন করে খড়ের চাল ছাইতে হয়  , দ্বিতীয়ত বাঁশের ফ্রেম বানিয়ে তার উপর খড়ের চাল নির্মাণ বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং খড় অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ । তাই বেশীরভাগ মানুষই খড়ের পরিবর্তে আজকাল এসবেস্টস শিট ব্যবহার করছে , অথচ এই এসবেস্টস শিট তৈরি হবার সময় যে ভীষণ রকম পরিবেশ দূষণ হয় তাই নয় বহুদিন জলবায়ু ও বৃষ্টির সংস্পর্শে থাকলে এই শিটগুলো থেকে যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় তা থেকে মারাত্বক রকম অসুখ হবার সম্ভাবনাও থাকে ।

Jayrambati Kamarpukur - Study of Vernacular Architecture Bengal Thatch Roof bamboo Structure

Thatch Roofing Details Bamboo Bengal Mud Hut Vernacular Architecture
Thatch Roofing Details

সমস্যা হল এখন বিশ্বায়ন এত দ্রুত থাবা বসাচ্ছে যে , গ্রামীণ সভ্যতার মধ্যেও খুব দ্রুত একটা মূলগত পরিবর্তন এসেছে । আমি অবশ্যই সেই দলে পরিনা যে মেঠো রাস্তাতে পিচ ঢাললেই রে রে করে তেড়ে আসব। আমি  ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি গ্রামের অর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশের প্রতিটা গ্রামে গ্রামে All Weather Road নির্মাণ একান্তই প্রয়োজনীয় । আমাদের এই প্রসঙ্গে মন্তব্য রাখার আগে , গভীর ভাবে অনুভব করতে হবে সাধারণ মানুষের চাহিদা । কেন তারা এত হাজার বছরের অভ্যাস ছেড়ে নতুন গৃহ নির্মাণ কৌশল বেছে নিচ্ছেন !  ক্ষেত্রবিশেষে সিমেন্ট বা কংক্রিটের ব্যবহারও নিশ্চয়ই করতে হবে । প্রয়োজনমত বিচার করে নতুন টেকনোলজির প্রয়োগ করাই কাম্য ।  কিন্ত অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো নির্মাণ পদ্ধতিতে সামান্য রদবদল ঘটিয়ে ব্যবহার করা হলে সেটাকেও টেকসই করা সম্ভব ।

উদাহরণ স্বরুপ বলি যে , গ্রামে আমরা যে বাঁশ ব্যবহার করি তাতে কোনরকম ওয়েদার ট্রিটমেন্ট করা হয়না ! অথচ খুব সস্তায় বোরুক্স আর বোরিক অ্যাসিডের মিশ্রন দিয়ে বাঁশকে জল নিরোধক করে তোলা যায় । এছাড়া বাঁশ পচে যায় আরেকটা কারণে – বাঁশের অগ্রভাগ যখন মাটির সংস্পর্শে থাকে তখন বর্ষাকালে ভিজে মাটি থেকে বাঁশ দ্রুত জল শোষণ করে । এর ফলে বাঁশ খুব দ্রুত পচে যায় । কিন্ত আমরা যদি বাঁশের অগ্রভাগটাকে মাটির বদলে ছোট্ট সিমেন্ত / কনক্রিটের চৌকো Pedestal বানিয়ে তাতে গেঁথে দিই তবে বাঁশের পচন রোধ করা সম্ভব । এছাড়াও গ্রামের মাটির বাড়িতে যে প্রচলিত পদ্ধতিতে খড় ছাওয়া হয় তার মেয়াদ হয় বড়জোর এক থেকে দুবছর । কিন্ত এমন কিছু বিশেষ কৌশল আছে যে কৌশল অনুসরন করে খড়ের চাল বানানো হলে তার মেয়াদ হবে অন্তত আট থেকে দশ বছর । এই সম্বন্ধে বিশদে জানতে হলে Balinese Thatching বলে গুগল সার্চ করতে পারেন । এছাড়া বাঁশের কাঠামো নির্মাণে আমরা যে নারকেল দড়ির ব্যবহার করি তা রোদবৃষ্টিতে খুব দ্রুত পচে যায় , তাই এক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ রকম দড়ির ব্যবহার করতে পারি যা সহজে পচে যাবেনা (যে দড়িগুলো সাইকেলের টিউবের মধ্যে ব্যবহার করা হয় কিম্বা সেই সব বিশেষ দড়ি যেগুলো সামুদ্রিক মাছ ধরার জালে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ) ।

শুধু এই কটা পদ্ধতিই নয় , আরো অসংখ্য নির্মাণ কৌশলের অনুসরন করে গ্রাম বাংলার গৃহ নির্মাণের খরচ যেমন কমানো যায় সেরকমই মাটির বাড়িকেও টেকসই করে তলা সম্ভব  ।  বাজারচলতি প্লাস্টারের বদলে চুন ও গোবরের মিশ্রনের ব্যবহার সম্ভব , কাঁচ লাগানোর বাজার চলতি পুটিংএর বদলে চুন ও সর্ষের তেলের মিশ্রন ব্যবহার করতে পারেন । দেওয়ালের নোনা ধরা আটকাতে কেরসিন তেল ও মোমের মিশ্রনের ব্যবহার করা সম্ভব । এরকম আরো অসংখ্য পদ্ধতি রয়েছে । Low Cost Housing বা সাশ্রয়ী গৃহ নির্মাণ পদ্ধতি এক দীর্ঘ বিষয় । সময় সুযোগ পেলে আলাদা করে এই বিষয়টা নিয়ে লিখব ।

Vernacular Low Cost Construction Techniques Bengal Bamboo

 

যাইহোক প্রসঙ্গে ফিরে আসি । বাংলার এই গ্রামীণ স্থাপত্য তো কোন একজন স্থপতির পরিশ্রমের ফসল নয় , বরং হাজার বছরের গ্রামীণ লোকসভ্যতা ও তার বিবর্তনের ফসল । পরিবেশ , পরিস্থিতি , জীবনভ্যাস , কৃষ্টি , ভূসংস্থান , বৃষ্টিপাত , আঞ্চলিক উপাদান (Available Building Material) ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করেই কোন নির্দিষ্ট গ্রামীণ স্থাপত্য রীতি গড়ে ওঠে । আবার স্থান ভেদে এই স্থাপত্য রীতি বদলে যায় , এই বাংলাতেই অন্তত তিন চার রকম গ্রামীণ স্থাপত্যরীতি দেখা যায় । উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ স্থাপত্যের সাথে মধ্যবঙ্গ বা রাঢ় বাংলার গ্রামীণ স্থাপত্য রীতি আলাদা । আবার সমুদ্র সংলগ্ন অঞ্চলে বা সুন্দরবনের দিকের গ্রামীণ স্থাপত্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে ।

ইদানিং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করেছে গ্রামের মানুষকে পাকা বাড়ি বানাতে সাহায্য করার জন্যও । প্রধান মন্ত্রী আবাস যোজনা যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য । তাই বলা যায় যে অদূর ভবিষ্যতে বাংলার গ্রামে গঞ্জেও কাঁচা মাটির বাড়ি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাবে । কে বলতে পারে , মানুষ তার জীবনভ্যাস ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে হয়তো নতুন কোন গ্রামীণ স্থাপত্যরীতি গড়ে তুলবে ।

এখানে গ্রামীণ স্থাপত্যরীতির সামান্য কিছু বিষয় কেবল ছুঁয়ে গেলাম । সময় সুযোগ পেলে বাংলার গ্রামের ‘Cluster Planning’ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরে একদিন আলোচনা করা যাবে । নীচে বীরভূমের এক সাঁওতাল গ্রামের রুফ প্ল্যান দিলাম । কিভাবে উঠোনকে কেন্দ্র করে এক একটা ছোট ক্লাস্টার গড়ে ওঠে , সেটা আশাকরি নীচের ছবিটা দেখে স্পষ্ট হবে ।

Vernacular Settlement Pattern of Villages in Bengal Architecture Planning Bengladesh
Settlement Pattern of Villages in Bengal

সব শেষে বলি যে গ্রাম বাংলার স্থাপত্য নিয়ে যখন লিখলাম তখন Bungalow’র (কথাটা এসেছে Bengal Low Roof থেকে) বিষয়ে উল্লেখ না করলে হয়তো অপরাধই হবে । ইউরোপে বহুল প্রচলিত বাংলো বাড়ির গোটা ধারনাটাই এসেছে বাংলার গ্রামীণ স্থাপত্য থেকে । বিশ্বাস না হলে নিজেই ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখে নিন । এই প্রসঙ্গে একটা অসাধারণ ভিডিওর লিঙ্ক দিয়ে লেখাটা শেষ করলাম ।

Arunava Sanyal Architect Sthapatya Article

Subscribe to our newsletter
Sign up here to get the latest news, updates and special offers delivered directly to your inbox.
You can unsubscribe at any time

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

3 Comments
  1. সণজীব says

    Osadharon laglo.
    Ai rokom aaro tottho Pele aaro valo lagbe.

  2. লেখাটি এবং ছবিগুলি ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।

    1. Arunava Sanyal says

      Dhonyobad 🙂

error: যোগাযোগ করুন - info.sthapatya@gmail.com